Ideas of History
বিশ শতকে ভারতে কৃষক,শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলনঃ বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা ।

আইন অমান্য আন্দোলন এবং তিরিশের দশকে ভারতে শ্রমিক আন্দোলন.

আইন অমান্য আন্দোলন এবং তিরিশের দশকে ভারতে শ্রমিক আন্দোলনঃ

১৯৩০ এর দশকের শুরুর দিকে ভারতে শ্রমিক আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়েছিল এর পশ্চাতে বেশ কিছু কারন ছিলঃ-

মীরাট ষড়যন্ত্র মামলায় শীর্ষস্থানীয় কমিউনিস্ট নেতাদের গ্রেপ্তারের পরিপ্রক্ষিতে আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়েছিল ।

১৯২৯খ্রিস্টাব্দে A.I.T.U.C. তে ভাঙন ধরেছিল । এন.এম.যোশী ভি.ভি.গিরি. প্রমুখ উদারপন্থী কংগ্রেসের সঙ্গে আপোষমুখী নেতারা AITUC থেকে বেড়িয়ে এসে গঠন করে ‘All india trade union fedaresan’।

১৯২৮খ্রিস্টাব্দথেকে কমিউনিস্ট নেতারা জাতীয় আন্দোলন থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রেখেছিল ফলে শ্রমিকদের মধ্যে তাদের প্রভাব কমতে থাকে।উদাহরন স্বরূপ বলা যায় ১৯২৮ গিরনি কামড় ইউনিয়নের সদস্য সংখ্যা ছিল ৫৪,০০০জন১৯২৯খ্রিস্টাব্দে তা কমে দাড়ায় ৮০০জন।AITUC এর মধ্যে কমিউনিস্ট দের প্রভাব কমতে থাকে।

১৯২৯-৩০এর বিশ্বব্যাপী মন্দার পরিপ্রেখ্যিতে শ্রমিকদের মনোবল কিছুটা ভেঙ্গে পড়েছিল।

১৯৩০খ্রিস্টাব্দে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হলে কমিউনিস্টরা নিজেদের সরিয়ে রেখেছিলেন।

এমত অবস্থায় কমিউনিস্ট নেতারা ১৯৩১খ্রিস্টাব্দে রেড ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (RTUC) প্রতিষ্ঠা করেন বি.টি.রোডদিয়ে সোমনাথ লাহিড়ী প্রমুখরা ।

আইন অমান্য আন্দোলনের সময় শ্রমিক আন্দোলন:-

মহারাস্ট্রের শোলাপুর:-গান্ধীজীর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শোলাপুরের বস্ত্র কারখানায় শ্রমিকরা ৭ই মে থেকে ধর্মঘট শুরুকরে। মিল শ্রমিকের জনগোষ্ঠী মদের দকান,থানা,আদালত,মিউনিসিপেল ভবন আক্রমন করে। বেশ কিছু মদের দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয়।মদের দোকান আক্রমণ করলেও মদ্যপানের প্রবণতা দেখা যায়নি এমনকি ১০ই মে বকরি ঈদ থাকলে কোন দাঙ্গা হাঙ্গামা হয়নি। শেলাহরে সমান্তরাল জাতীয় সরকার গঠিত হয়েছিল কিছু সময়ের জন্য। শহরে জাতীয় পতাকা উত্তলন করা হয়েছিল।অবস্থা নিয়ন্ত্রনের জন্য সামরিক বাহিনীকে নামান হয়েছিল।

বোম্বাইঃ- ১৯৩০খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০০০০ শ্রমিক ধর্মঘট করে বোম্বাইতে। লবণ সত্যাগ্রহ শুরুকরেছিল জি.আই.পি. রেল শ্রমিকরা।শ্রমিকরা অভিনব কায়দায় বোম্বাই শহরের উপকণ্ঠে রেলওয়ে লাইন গুলিতে লাল পতাকা লাগিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে পরেন।এর মোকাবিলায় পুলিশকে গুলি চালাতে হ্য়।ব্যাপক হারে গ্রেপ্তার করা হয়।এর প্রতিবাদে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি ৬ই জুলাই গান্ধী দিবস পালন করে।প্রায় পঞ্চাশ হাজার শ্রমিক ধর্মঘটে শামিল হয়।

বাংলাঃ-গান্ধীজীর গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পরতে কলকাতাতেও জঙ্গি শ্রমিক আন্দোলন শুরুহয়।পুলিশ আক্রান্ত হ্য় ,১৪৪ধারা জারির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।স্টেশনে কুলিরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল।বালি জুটমিলের শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়নি.১৯৩২খ্রিস্টাব্দ নাগাদ রেলওয়ে ওয়ার্কশপ গুলোতে ধর্মঘট শুরুহয় মাদ্রাজ এবং সার্দান মারহাট্টা রেলওয়ের পেরাম্বুর আর্কোনাম এবং হুগলি ওয়ার্কশপে শ্রমিকরা ধর্মঘট শুরু করে।৮০০শ্রমিক এই ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করে।১৯৩০খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিম মুখোপাধ্যায়,আবদুল মোমিন প্রমুখের নেতৃত্বে কলকাতায় মোষের গাড়ীর গাড়োয়ানরা পথ অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে কারন পুলিশ দুপুর বেলা মোষের গাড়ী চালানো বন্ধকরার বিগপ্তি জারি করে।আন্দোলন এতটাই তীব্রছিল পুলিশকে গুলি চালাতে হয় এবং সরকার এই নিষেধাঞ্জা তুলে নিতে বাধ্য হয়।১৯৩২খ্রিস্টাব্দে শ্রমিক ধর্মঘটের সংখ্যা ছিল ১১৮টি মোট ১,২৮,০৯৯জন শ্রমিক অংশ গ্রহণ করে ছিল অন্যদিকে ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ধর্মঘটের সংখ্যা ছিল ১৫৯টি ধর্মঘটীদের সংখ্যা বেড়ে হয় ২,২০,৮০৮টি।এই সময়ে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন জোদার হয়ে উঠেছিল বম্বাই তে বি.টি.রনদিডে ও এস.পি.দেশপান্ডে কলকাতার আব্দুল হালিম সোমনাথ লাহেড়ী রমেন সেন প্রমুখদের বলিস্ট নেতৃত্বে।১৯৩৪খ্রিস্টাব্দের মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় রায় বের হয় এবং ১৯৩৫খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিকে ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ ঘোষনা কড়ে।ফলত কমিউনিস্ট নেতৃবৃন্দ ভারতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে আন্দোলন পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।১৯৩৫খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেস সমাজতান্ত্রী দল গরে ওঠে।কমিউনিস্টরা এবং কংগ্রেস সমাজতান্ত্রী দলের নেতারা যৌথ ভাবে শ্রমিক আন্দোলন পরিচালনা কড়ে।বামপন্থী মনভাবাপন্ন জহরলাল নেহেরু ১৯৩৬খ্রিস্টাব্দে জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হলে শ্রমিকদের মধ্যে উৎসাহের সম্ভার হ্য়।১৯৩৮খ্রিস্টাব্দে এপ্রিল মাসে ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন এবং A.I.T.U.C এর সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হয়।১৯৩৫খ্রিস্টাব্দে ভারত শাসন আইন মোতাবেক ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে প্রাদেশিক নির্বাচনে ভারতীয় কংগ্রেস কে শ্রমিক শ্রেণি মূলত A.I.T.U.C সমর্থন কড়ে।প্রদেশ গুলিতে কংগ্রেসী মন্ত্রীসভা গঠিত হলে শ্রমিক আন্দোলনের তীব্রতা ব্রিদ্ধি পেয়েছিল।

১৯৩৭খ্রিস্টাব্দে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলার চটকলের শ্রমিকরা ধর্মঘট করে।

১৯৩৮খ্রিঃ কানহরে সুতিবস্ত্র,শিল্পের ধর্মঘট হয়।এছাড়া কুলটি,হিরাপুরে মার্টিন বার্ন কম্পানির লোহা-ইস্পাত শ্রমিকরা ধর্মঘট করে।

১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে আসামের ডিগবয় কারখানায় তেল শ্রমিকেরা ৬মাসব্যাপী ধর্মঘট চালিয়েছিল।

সবচেয়ে বেশি উত্তাল হয়ে উঠেছিল বোম্বাই নগরী।

১৯৩৮খ্রিস্টাব্দে প্যাটেল,রাজেন্দ্রপ্রসাদ,ও জে.বি.ক্রিপালনীর উদ্যগে গঠিত হয় ‘হিন্দুস্থান মজদুর সভা’।কিন্তু শ্রমিক আন্দোলনের এই তীব্রতাবৃদ্ধি মালিক পক্ষকে বিব্রত করেছিল কীছুটা ভীত।তারা প্রাদেশিক কংগ্রেসী মন্ত্রীসভার ওপর শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কঠর হবার জন্য চাপ তৈরি করে,কংগ্রেস শাসিত যুক্তপ্রদেশ ও বম্বে থেকে দেশিয় রাজন্য শাসিত রাজ্য গুলিতে পুঁজি স্থানান্তরের আশঙ্কা ছিল। কারন রাজন্য শাসিত দেশিয় রাজ্য গুলিকে কোন রকম আইন ছিলনা।কংগ্রেস মন্ত্রীসভার শ্রমিক বিরোধী অবস্থানের প্রমান পাওয়া গেল ১৯৩৮খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বরে ‘Bombaytrade dispes res bill’এর মাধ্যমে।এই আইন মোতাবেক সালিশীর মাধ্যমে শ্রমিক সমস্যা সমাধানের কথা বলাহলো।বে আইনি ধর্মঘটের জন্য ৬মাসের কারাদণ্ডের সুপারিশ করা হয় অথচ লক আউট এর জন্য মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলোনা।প্রায় সমস্থ ট্রেডইউনিয়ন নেতা এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করে।১৯৩৮খ্রিস্টাব্দে৬ই নভেম্বর প্রায় ৮০০০মানুষ বম্বেতে একটি প্রতিবাদ সভায় ষোগ দেয়।সভায় বক্তব্য রাখেন ইন্দুলাল কাঞ্জিলাল,এস.এ.ডাঙ্গে ও আম্বেদকর।পরেরদিকে বম্বেতে সাধারন ধর্মঘট পালিত হয় পুলিশ ধর্মঘটী শ্রমিকদের ওপর গুলিচালায় কংগ্রেস নেতারা কেউ সমালোচনা করেনি এমনকি গান্ধিজি ও নন।